Text size A A A
Color C C C C
পাতা

অফিস সম্পর্কিত

প্রাণিসম্পদ সেবা কার্যক্রমের ক্রমবিকাশ :

            বৃটিশ সামরিক অশ্বারোহী বাহিনীতে ঘোড়া সরবরাহের জন্য একজন পদস্থ অ-ভেটেরিনারি কর্মকর্তা Lt. William Freezerএর অনুরোধে  এবং   London Court of Dircetor  এর সম্মতিক্রমে ১৭৯৫ সালে ভারতের পুষার অদূরে “পুষা ঘোড়ার খামার” স্থাপনের মধ্যমে এই উপমহাদেশে ভেটেরিনারি চিকিংসা সেবার গোড়াপত্থন হয়। সে সময় ৫ জন সামরিক কর্মকর্তাকে ৩ মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে  ঘোড়া চিকিৎসার দায়িত্ব দেয়া হয়। স্বল্প মেয়াদী প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের পক্ষে ঘোড়ার নানাবিধ রোগের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব না হলে London Court of Dircetor  এর অনুমতিক্রমে ১৮০৮ সালে Mr. William Morr Creft  কে বে-সামরিক ভেটেরিনারি চিকিংসক হিসাবে নিয়োগ প্রদান করে খামারে পাঠানো হয় । তিনিই ভারত বর্ষে প্রথম ডিগ্রীধারী পেশাদার ভেটেরিনারি চিকিংসক। তার প্রচেষ্টায় পশু রোগ নির্ণয়, প্রতিকার, খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে পুষা খামারের উন্নয়ন ঘটে । পরবর্তীতে যখন  Mr. J. H. B. Hallen   রোম্বে সামরিক বাহিনীর মূখ্য ভেটেরিনারি সার্জনের দায়িত্বে নিয়োজিত হন তখনই এদেশে ভেটেরিনারি শিক্ষা, গবেষণা ও সার্ভিসের পুনঃগঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়। Mr. J. H. B. Hallen   এর ঐকান্তিক ইচ্ছায় ১৮৬২ সালে ভারতবর্ষে  সর্বপ্রথম পুনাতে একটি সামরিক ভেটেরিনারি হাসপাতাল এবং মুক্তশ্বরে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়। পরবর্তীতে তাঁরই প্রচেষ্টায় ১৮৭৭ সালে “ হাপুর ভেটেরিনারি স্কুল”, ১৮৮৬ সালে “ বোম্বে ভেটেরিনারি কলেজ”, ১৮৯৩ সালে “ বেঙ্গল ভেটেরিনারি ইনষ্টিটিউট ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল” এবং ১৯০২ সালে “ লাহোর ভেটেরিনারি স্কুল” প্রতিষ্ঠিত হয় ।

         Mr. J. H. B. Hallen   সামরিক বাহিনীর পশু চিকিৎসার পাশাপাশি বে-সামরিক জনগনের গৃহপালিত পশু পাখির চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ১৮৯৩ সালে “ সিভিল ভেটেরিনারি ডিপাটমেন্ট” প্রতিষ্ঠা করেন । সরকারের “ভেটেরিনারি উপদেষ্টা” পদবীতে এই বিভাগের একজন পরিচালক নিয়োজিত হন এবং কলিকাতার রাইটার্স বিল্ডি  তার সদর দপ্তর স্থাপিত হয়।

        ১৯২১ সালের নভেম্বর মাসেMr. J. H. B. Hallen   পরMr. J.T. Edward   পরিচালকের দায়িত্বভার গ্রহণ করলে উপমহাদেশের ভেটেরিনারি সার্ভিস ও গবেষণা কর্মকান্ড ক্রমান্বয়ে আরও গতি লাভ করে। ১৯৩৬ সালে Madras Veterinary Collegeএ প্রথম পশুপালন ও পশুচিকিৎসায় B.V. Sc  নামে ডিগ্রী কোর্স চালু হয়।

          ১৯৩৮ সালে দিল্লীতে “First All India Cattle Show”নামে গবাদিপশু প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয় এবং প্রায় ২৩ প্রজাতির গবাদিপশু প্রদর্শনীতে স্থান পায় । তৎকালীন ভারত বর্ষের ভাইসর Lord Linlithgowপ্রদর্শনী দেখতে এসে এতদাঞ্চলে পশু সম্পদের উন্নয়নের ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে বাংলাকে অগ্রাধিকার প্রদানের কথা ঘোষণা করেন । তিনি প্রদর্শনী পর্যবেক্ষণের সময় যে, ২টি মূল্যবান বক্তব্য রেখে যান তা আজও সমান সত্য বিবেচনার দাবী রাখে ।

1.  The cow and the bullock carry on their back, the whole structure of Indian Agriculture.

2.  There is no other single contribution towards the enhancement of Agricultural wealth of the country than Livestock.

Lord Linlithgowএর এই ঘোষণার পর পুশসম্পদের বিকাশ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুনভাবে সাড়া জাগে। তিনি বেসামরিক পশু চিকিৎসা বিভাগকে পূর্ণাঙ্গ অধিদপ্তরে উন্নিত করেন । প্রশাসনিক সুবিধার জন্য প্রাদেশিক বিভাগের অধিনে ৩টি প্রশাসনিক অঞ্চল গঠন করে প্রতিটি অঞ্চলে একজন সহকারী পরিচালক নিয়োগ করা হয়। বৃটিশ শাসনামলে ভেটেরিনারি চিকিৎসা মহকুমা ও থানা পর্যায়ে সম্প্রসারিত হয় ।১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর অত্র  বিভাগের সদর দপ্তর কুমিল্লা জেলা শহরের “ক্ষেত্রী বিল্ডিং” এ স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে ৩১ অক্টোম্বর ১৯৪৮ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বেসামরিক পশু চিকিৎসা বিভাগকে নতুনভাবে পূর্ণগঠন করা হয় এবং বিভাগীয় কর্মসূচিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয় । এই সময়ে কুমিল্লা থেকে সদর দপ্তর ঢাকার নিমতলীয় “সাইন্স ভিলাতে” এবং পরবর্তী কালে ১৯৬৪ সালে সচিবালয়ের অভ্যন্তরে স্থানান্তরিত হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে সদর দপ্তর মতিঝিল এলাকায় এবং পরে কাজী আলাউদ্দিন রোর্ডে অবস্থিত কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতাল চত্বরে এবং সর্বশেষ ১৯৮৪ সালে শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত ফার্মগেটে অধিদপ্তরের জন্য নবনির্মিত নিজস্ব ভবনে স্থায়ী ভাবে স্থানান্তরিত হয়। এই পশু চিকিৎসা বিভাগই আজকের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর নামে পরিচিত ।

 

 জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, নীলফামারী : নীলফামারী রেল স্টেশন হতে আধা কি.মি.পূর্ব- উত্তর কোণে এবং ল্যাপ্রোসি হাসপাতাল হতে ১ কি.মি. দক্ষিণে পুলিশ লাইনে সামনে ০.৭৩ একর জমির উপর ত্রি-তল ভবনে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর অবস্থিত। এ জনপদের মানুষজনের গবাদি প্রাণি, ছাগল-ভেড়া ও হাঁস-মুরগির উন্নত চিকিৎসা সেবা, রোগ প্রতিরোধ, কৃত্রিম প্রজনন সেবা, বিভিন্ন ধরণের আধুনিক লাগসই  প্রযুক্তি হস্তান্তর করে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির জাত উন্নয়ন ও গুনগতমান বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রাণিজ আমিষ বিশেষতঃ দুধ, ডিম ও মাংসের সরবরাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে বুদ্ধিদৃপ্ত ও মেধাশীল জাতী গঠন, জমির প্রাণ শক্তি জৈবসারের যোগান বৃদ্দি, আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনের মত নানাবিধ লক্ষ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, নীলফামারী ০৬ টি উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর এর মাধ্যমে  নিরলসভাবে বিভিন্ন ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসচ্ছে।
ফোনঃ  ০৫৫১-৬১৪৯৭ ;ফ্যাক্স :০৫৫১-৬১১৫৩
মোবাইল : ০১৭১৬-৩৮৬২৫৮
            ০১৭৩৩৩৯০৬৮৯ (অফিসিয়াল)
ই-মেইল : dlo.nilphamari@yahoo.com

 

 

ছবি